Sylhet 10 LIVE ডেস্ক :
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের বিধিমালা সংশোধন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন বিধিমালায় চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের জামানতের অর্থ বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমাও বাড়ানো হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সংশোধিত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত পাঁচ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীদের জামানত এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচনে কোনো প্রার্থী প্রদত্ত মোট ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ না পেলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
বাড়ল নির্বাচনী ব্যয়ের সীমাও
সংশোধিত বিধিমালায় ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমাও বাড়ানো হয়েছে। নতুন নিয়মে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং সাধারণ সদস্য প্রার্থী সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা নির্বাচনী কাজে ব্যয় করতে পারবেন। আগের তুলনায় এই ব্যয়ের সীমা দ্বিগুণ করা হয়েছে।
নির্বাচনী ব্যয় পরিচালনার জন্য প্রার্থী বা তাঁর নির্বাচনী এজেন্টকে নির্দিষ্ট একটি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতে হবে। ওই হিসাবে ২০ হাজার টাকার বেশি কোনো লেনদেন ব্যাংকিং মাধ্যম ছাড়া করা যাবে না।
অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান
নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে অপরাধের শাস্তির বিধানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তাঁর সমর্থক কাউকে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।
সমান ভোটে আর হবে না লটারি
নতুন বিধিমালায় সমান ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে লটারির বিধানও বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে দুই বা ততোধিক প্রার্থী সমান ভোট পেলে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে না। বরং যেসব কেন্দ্রে প্রার্থীরা সমান ভোট পেয়েছেন, সেসব কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণ করা হবে।
প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য বিশেষ সুবিধা
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ সহজ করতে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে এসব ভোটার ভোটদানের জন্য কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী একজন সহায়তকারী সঙ্গে নিতে পারবেন।
তবে কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ওই ভোটারের সহায়তাকারী হতে পারবেন না।
সহায়তকারীকে ভোটারের পছন্দের গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি এ ধরনের ভোটারদের জন্য প্রিসাইডিং কর্মকর্তা পৃথক তালিকাও সংরক্ষণ করবেন।
সংশোধিত এসব বিধানের ফলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত, নির্বাচনী ব্যয়, অপরাধের শাস্তি, সমান ভোটের ফল নির্ধারণ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে নতুন নিয়ম কার্যকর হলো।



No comments: