নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনীতিতে এখন আলোচনার তুঙ্গে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মিজানুর রহমান মিজান। ওয়ার্ডজুড়ে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ, তরুণ সমাজ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাঝে তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব গণজোয়ার। তবে এ জনপ্রিয়তা কেবল সাময়িক কোনো নির্বাচনী হাওয়া নয়; এর পেছনে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী "বারো হামাসা" খ্যাত সিলেটের এক সম্ভ্রান্ত, সম্মানিত ও রাজপথের ত্যাগী পরিবারের সুদীর্ঘ ইতিহাস।
পারিবারিক ঐতিহ্য ও জনসেবার শিকড়
মিজানুর রহমান মিজানের দাদা মরহুম উসমান মিয়া ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট বিচারক-শালিসি ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রিয় সমাজসেবক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র প্রতিষ্ঠালগ্নে সিলেট অঞ্চলে যেসব গুটিপয় প্রভাবশালী নেতা দলের শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম। দাদার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে মিজানুর রহমান মিজানের বাবা মরহুম শওকত আলীও ছিলেন সিলেট শহরের অত্যন্ত পরিচিত, সর্বজনশ্রদ্ধেয় শালিস ব্যক্তিত্ব ও প্রভাবশালী বিএনপি নেতা।
রাজনৈতিক নিপীড়ন ও অদম্য ত্যাগ দেশ ও রাজপথের আন্দোলনে এ পরিবারের অবদান সিলেটের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য। গত ১৯ বছরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে লড়তে গিয়ে এই পরিবারের সদস্য দাদা, বাবা ও মিজানুর রহমান মিজানের নামে ৩৫ থেকে ৪০টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়।
এমনকি ২০১৮ সালের একতরফা ও প্রহসনমূলক নির্বাচনে পরিবারের নারী সদস্য কুলসুমা বেগম রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সে সময় ভোটকেন্দ্রে খোদ পুলিশ সুপার (এসপি) এসে বন্দুকের মুখে তাকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই অমানুষিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ধকল সামলাতে না পেরে তিনি পরবর্তীতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ইলিয়াস আলীর অন্তর্ধান ও রাজপথের নেতৃত্ব সিলেটের সর্বজনপ্রিয় নেতা ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার পর রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দেন মিজানুর রহমান মিজান। "ইলিয়াস প্যানেলে" নেতৃত্ব দিয়ে তিনি আন্দোলন বেগবান রাখেন এবং রাজপথের প্রতিটি লড়াই-সংগ্রামে কর্মী-সমর্থকদের পাশে থাকেন। আক্রান্ত নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা ও সার্বিক তদারকিতে তিনি সর্বদা প্রস্তুত ছিলেন।
রাজপথের এই সক্রিয়তার কারণে দেশের বাইরে অবস্থানকালেও তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, তিনি যুক্তরাজ্য সাসেক্স যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
জনপ্রিয়তার ঐতিহাসিক প্রতিফলন গত ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর মিজানুর রহমান মিজানের বিপুল জনপ্রিয়তার অনন্য নজির দেখা যায়। দেশে পৌঁছানোর পর সিলেট বিমানবন্দরে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক জমায়েত হন। পরে সুবিশাল মোটরবাইক ও গাড়িবহর নিয়ে সাধারণ মানুষ তাকে সশ্রদ্ধ ভালোবাসায় নিজ বাসভবনে নিয়ে যান।
তৃণমূলের ক্ষোভ ও প্রত্যাশা:
তবে স্থানীয় নেতাকর্মী ও রাজপথের ত্যাগী সমর্থকদের মনে কিছুটা আক্ষেপও রয়েছে। তাদের ভাষ্য যে পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বছরের পর বছর ত্যাগ স্বীকার করেছে, মিজান আজ দলীয় মূল্যায়নে কিছুটা পেছনে পড়ে আছেন। বর্তমানে অনেকেই বড় বড় পদ-পদবি পেলেও, তৃণমূলের প্রকৃত রূপকার ও প্রাণপুরুষেরা এখনো পেছনের সারিতে।
তা সত্ত্বেও, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণ ও তৃণমূল কর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস রাজনীতির পদ-পদবির চেয়েও জনগণের ভালোবাসাই মিজানের মূল শক্তি। এই ত্যাগ ও ঐতিহ্যকে পাথেয় করে আসন্ন নির্বাচনে মিজানুর রহমান মিজান বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ওয়ার্ডবাসীর পাশে থেকে উন্নয়ন ও জনসেবায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।



মিজানুর রহমান মিজান ভাই এর কথা লিখে সেশ করা যাবেনা উনার পরিবারে অবদান আখালিয়া তথা পুরা সিলেটর মানুষের অজানা কিছু নয়
ReplyDelete